Below Main Menu
মেনু
News16
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

ফানুস ও প্রদীপে উৎসবমুখর বান্দরবান

বান্দরবান প্রতিনিধি প্রকাশ : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ 39 বার পঠিত
ফানুস ও প্রদীপে উৎসবমুখর বান্দরবান
ছবি : প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বান্দরবানের বৌদ্ধবিহারগুলোতে চলছে প্রার্থনা, পূজা ও দানানুষ্ঠান।
Single News Top

বান্দরবান প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য ধর্মীয় আয়োজন, বর্ণিল আলোকসজ্জা, প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে উদ্‌যাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা বা মাহা ওয়াগ্যেয়ে পোয়েঃ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে শুরু হয়েছে প্রার্থনা, ধর্মীয় দেশনা, ফুল পূজা ও দানানুষ্ঠান। উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি জনপদে বিরাজ করছে আনন্দমুখর পরিবেশ।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বান্দরবানের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়। পাহাড়ের গ্রাম ও পাড়ার অলিগলিতেও লেগেছে উৎসবের ছোঁয়া। ঐতিহ্যবাহী থামি ও লুঙ্গি পরে মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিহারে সমবেত হচ্ছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন তাঁরা।

সকাল থেকে বিভিন্ন বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উদ্দেশে অর্থ ও অন্নদান, ফুল পূজা এবং পঞ্চশীল, অষ্টশীল ও দশশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন ধর্মাবলম্বীরা। জগতের সব প্রাণীর মঙ্গল, পরিবার-পরিজনের সুখ-শান্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ প্রার্থনাও করছেন তাঁরা।

রাজগুরু বৌদ্ধবিহারের ধর্মজ্যোতি ভিক্ষু বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিহারে সমবেত হয়ে ভগবান বুদ্ধের কাছে পাপ থেকে মুক্তি এবং নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন। এ উৎসব মানুষকে সৎকর্মে অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়।

বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু হওয়া তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমায় প্রবারণা উৎসব উদ্‌যাপন করা হয়। বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুরা নিজেদের দোষত্রুটি পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় প্রায়শ্চিত্তের আহ্বান জানান। আত্মশুদ্ধি, অহিংসা ও সৎপথে চলার শিক্ষা এ উৎসবের অন্যতম তাৎপর্য।

বিহারের উপাসক নন্দশ্রী ভিক্ষু বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে প্রবারণা পূর্ণিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় তিথি। বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুসারে, রাজকুমার সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধ সন্ন্যাসব্রত গ্রহণের সময় নিজের চুল কেটে আকাশে নিক্ষেপ করেছিলেন। সেই চুল স্বর্গের চুলামণি চৈত্যে সংরক্ষিত রয়েছে বলে ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচলিত আছে। এ বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস উত্তোলন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা ও সাংগ্রাই—এ দুটি তিথি মারমা সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। এ সময় অনেকে অষ্টশীল গ্রহণ করে বিহারে অবস্থান করেন এবং ধ্যান, প্রার্থনা ও ধর্মীয় সাধনায় সময় কাটান।

উৎসব উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় বান্দরবানের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে হাজার প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস উত্তোলনের আয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এসব আয়োজন উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে সাঙ্গু নদীতে রথ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
 

Single News Bottom

ধর্ম থেকে আরও দেখুন

নিচে স্ক্রল করলে পরবর্তী সংবাদ আসবে