মেয়াদ শেষ হচ্ছে রাকসুর, পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা
Tarek Monower Yeasin
ভেরিফাইড রিপোর্টার
রাবি প্রতিনিধি: দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর)। তবে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন নিয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি নেই। ফলে নতুন নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। সেই হিসাবে আজ বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হলেও রাকসুর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, গঠনতন্ত্রে রাকসুর মেয়াদ বাড়ানোর বিধান নেই। তাই আজই বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তিনি বলেন, “রাকসু ৩৫ বছর পর হয়েছে, আমরাও চাই রাকসু হোক। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তখনই এর আয়োজন করা হবে।”
গত বছরের নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এতে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সহসভাপতি (ভিপি), সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস)সহ ২০টি পদে জয়ী হয়। হল সংসদগুলোর শীর্ষ পদেও এ প্যানেলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।
রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসুকে কার্যকরভাবে চালু করতে পারা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে মেয়াদ শেষ করাকে তাঁরা বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। শুরুতে পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার অভাবে কিছুটা সমস্যা হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী নির্বাচন ও নতুন সংসদের পথ সুগম করতে তাঁরা শুরু থেকেই কাজ করছেন। সর্বশেষ অধিবেশনে বর্তমান কোষাধ্যক্ষকে গঠনতন্ত্র সংস্কার, নির্বাচনী তফসিল প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, উপাচার্য পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা হবে কি না, তা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের যাত্রা শুরু হয়। সামরিক শাসনের কারণে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে ১৯৬২ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘রাকসু’ রাখা হয়। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ ৩৫ বছর এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
