বান্দরবানে ইটভাটা নেই, বাড়তি দামে ইট কিনছেন বাসিন্দারা
বান্দরবান প্রতিনিধি: পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ইটভাটা স্থাপনের সুযোগ না থাকায় নির্মাণসামগ্রীর জন্য বাইরের জেলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে ইটের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়িঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি সীমিত হয়ে পড়ছে স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ।
বান্দরবান সদর, রুমা, থানচি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মাণে ইটের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে উৎপাদন না থাকায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, কেরানীহাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ইট আনতে হয়। ফলে পরিবহন খরচ ও সরবরাহসংকটের কারণে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বান্দরবানের সোয়ালক, মাঝেরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ের মাটি ও গাছ সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ সেখানকার উৎপাদিত ইটই আবার বেশি দামে বান্দরবানে কিনতে হচ্ছে। এতে ইটভাটা না থাকার ফলে পরিবেশের প্রকৃত সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
লামার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে বাইরে থেকে ইট আনতে হয়। ইটের দাম ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে নির্মাণব্যয় অনেক বেড়ে যায়। পরিবেশের ক্ষতি না করে স্থানীয়ভাবে ইট উৎপাদনের ব্যবস্থা করা গেলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
শ্রমিক বজলুল রশিদ বলেন, স্থানীয়ভাবে ইটভাটা চালু হলে শ্রমিক, গাড়িচালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। তবে পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো কাজ চান না তারা।
রুমার বাসিন্দা মংক্যাচিং মারমা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নোমানও মনে করেন, পরিবেশ রক্ষা করে স্থানীয়ভাবে ইট উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হলে নির্মাণ ব্যয় কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।
স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে উপযুক্ত স্থান ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি যাচাই করে স্থানীয়ভাবে ইট উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রেখে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে বান্দরবানে নির্মাণ ব্যয় কমার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
