পোশাক শিল্পে অস্থিরতার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের লক্ষ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমানে কোনো অমীমাংসিত দাবিদাওয়া নেই। এরপরও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পোশাক শিল্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে কিছু বহিরাগত ও অশ্রমিক ব্যক্তি হামলা, অগ্নিসংযোগসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, তদন্তে অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন গার্মেন্টস মালিক, সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভূমিকার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিচালিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের লক্ষ্য
পোশাক শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের অন্যতম দাবি ছিল প্রতি তিন বছর পরপর নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন। সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই এ উদ্যোগ নিয়েছে।
শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় বোর্ড গঠনে দেরি হলেও নাম পাওয়ার পরপরই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি জানান, সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধি রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড কাজ করছে।
শ্রমিক ও শিল্পবান্ধব সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও সার্বিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
তিনি জানান, সম্প্রতি পোশাক কারখানার মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সরকারের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, উভয় পক্ষই স্বীকার করেছেন, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলন নয়; বরং রাজনৈতিক স্বার্থে শ্রমিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে।
চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপরও তাঁরা সংযম প্রদর্শন করেছেন। তবে এ সুযোগে অপরাধী ও সংঘবদ্ধ চক্রকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সাধারণ শ্রমিকদের গুজব ও উসকানিতে কান না দিয়ে দ্রুত নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শ্রমিকরা কাজে ফিরলে শিল্প উৎপাদন সচল থাকবে এবং জাতীয় অর্থনীতিও সুরক্ষিত থাকবে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক প্রসঙ্গ
সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি আটক হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।
