বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা
সিক্সটিন ডেস্ক: পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ নিজ বাড়ির কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেছেন চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিরোধী দলে থাকতেই যদি নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা হাতে গেলে কী করা হবে?
সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তাসনিম জারা।

পোস্টে তিনি লেখেন, এ দেশের সমাজে কেউ মারা গেলে তাঁর দাফনের জন্য প্রতিবেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন। মৃত ব্যক্তির দাফনে দেরি করা উচিত নয়, এমন মূল্যবোধ নিয়েই মানুষ বড় হয়। অথচ ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে দীর্ঘ সময় উৎকণ্ঠায় থাকতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাসনিম জারার ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা পিরোজপুরে মানিক পশারীকে দাফন করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মিছিল করেন এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। পরে শনিবার গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
তিনি আরও লেখেন, একজন ব্যক্তি নিজের পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত হবেন কি না, তা নির্ধারণের অধিকার অন্য কারও নেই। জামায়াত একসময় নিজেদের বিরুদ্ধে উচ্চারিত ‘বাংলা ছাড়’ ধরনের বক্তব্যকে অন্যায় বলে জানত। অথচ ক্ষমতার সামান্য প্রভাব পেয়েই তারা সেই বিষয়টি ভুলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাসনিম জারা তাঁর পোস্টে ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, দলটি নিজেদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার কথা বললেও অন্যদের ক্ষেত্রে সেই মূল্যবোধ অনুসরণ করছে না।
উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্বজনেরা তাঁর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে যান। পরে পুলিশ লাইনসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
