গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়াল চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী, বন্ধ ১৮ কারখানা
পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও আহত সংবাদকর্মীসহ বেশ কয়েকজন
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজীপুরের পোশাকশিল্পাঞ্চল। শনিবার দুপুরে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা। পরে পাশের ডিভাইন টেক্সটাইলের শ্রমিকেরাও আন্দোলনে যোগ দেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আশপাশের ১৮টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের মতো ওভারটাইমের সুযোগও নেই। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও তাঁদের বেতন বাড়েনি। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।
শনিবার দুপুরে টিফিনের বিরতির সময় কাজে যোগ না দিয়ে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় সড়কে ময়লা-আবর্জনার বস্তা ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন তাঁরা। পরে ডিভাইন টেক্সটাইলের শ্রমিকেরাও যোগ দিলে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে সংবাদকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
পুলিশ, কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। এরই মধ্যে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এরপরও বিভিন্ন কারখানায় অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত ১৮টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
