পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ, রূপপুরে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু
সিক্সটিন ডেস্ক: অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে ঐতিহাসিক এক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে পাওয়ার স্টার্টআপের আওতায় এ কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (BAERA) অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার প্রথম ইউনিটকে পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার থেকে শুরু হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম।
বর্তমানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে টারবাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পরীক্ষা চলছে। উৎপাদন সক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে নেওয়ার পর পুনরায় পরিদর্শন করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। তবে শুরুতেই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করা হবে না। পর্যায়ক্রমে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা, টারবাইন ও জেনারেটরের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী কার্যক্রম এগোবে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। এর আগে প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল ও ফিজিকস পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী মাসে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। তবে এ সময়সীমা নির্ভর করবে কারিগরি পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্যও প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে। এর প্রথম চালান ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। সব কার্যক্রম সম্পন্ন হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে।
রূপপুরে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে যুক্ত হলো নতুন এক প্রযুক্তি। এখন প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন শেষে জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর অপেক্ষা।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
