রাবিতে চীনা ভাষা শিক্ষায় ১০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান
Tarek Monower Yeasin
ভেরিফাইড রিপোর্টার
রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চীনা ভাষা শিক্ষার প্রচার, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ গ্যালারিতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে চীনা ভাষা শিক্ষা কোর্সের পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ১০ শিক্ষার্থীকে উচ্চতর কোর্সে পড়াশোনার জন্য বৃত্তি দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাবি স্কুলকে অডিও-ভিজ্যুয়াল সামগ্রীসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়। স্কুলের অধ্যক্ষ ড. মো. আমিনুল ইসলাম এসব উপকরণ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ঝাং শি, বাংলাদেশি পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ সাজ্জাদুর রহিম এবং বাংলাদেশে ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব ওয়েং ইউয়ানছিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক মো. আব্দুল মতিন তালুকদার।

বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, চীন জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে চীনের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। চীনা ভাষা শেখার মাধ্যমে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, বিদেশি ভাষায় দক্ষতা শিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে। চীনা ভাষা শিক্ষা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা, যৌথ গবেষণা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ ছাড়া কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও বৃত্তির সুযোগ তৈরির মাধ্যমে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করতে পারে।
অনুষ্ঠানে চীনা ক্যালিগ্রাফি, ঐতিহ্যবাহী চা পরিবেশন, হস্তশিল্প ও পেকিং অপেরার মুখসজ্জাসহ চীনের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও কারুশিল্প প্রদর্শন করা হয়। আয়োজনের মাধ্যমে চীনা ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
