পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষায় তুরস্কের ‘স্টিল ডোম’
নিউজ সিক্সটিন ডেস্ক: তুরস্কের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘স্টিল ডোম’ (Steel Dome) নিয়ে পাকিস্তানের আগ্রহের দাবি ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পাকিস্তান এ ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিংবা মোতায়েনের জন্য কোনো চুক্তি করেছে, এমন তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে লেজারভিত্তিক অস্ত্রও গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশটির ALKA ও GÖKBERK প্রকল্পে ড্রোনসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় লেজার প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি উন্নত রাডার ও সমন্বিত কমান্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত, অনুসরণ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করার সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ম্যাক ৫ গতির সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সক্ষমতা কিংবা ৯৫ শতাংশ সফলতার যে দাবি প্রচারিত হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফলাফল ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
পাকিস্তান-তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে তুরস্কের তৈরি বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সঙ্গে তুরস্কের ASELSAN নির্মিত KORKUT ও ŞAHİN প্রযুক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
তবে এসব প্রযুক্তির উপস্থিতিকে পাকিস্তানের সম্পূর্ণ ‘স্টিল ডোম’ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী প্রভাব পড়তে পারে?
পাকিস্তান ভবিষ্যতে তুরস্কের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশটির আকাশসীমা সুরক্ষা, ড্রোন প্রতিরোধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আধুনিক যুদ্ধবিমাননির্ভর সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রযুক্তি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক সহযোগিতাও আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের স্টিল ডোম কেনার আগ্রহ, ক্রয়চুক্তি কিংবা সম্ভাব্য মোতায়েনের সময়সীমা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে নিশ্চিত সামরিক চুক্তি হিসেবে উপস্থাপন না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দাবি এবং দুই দেশের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য আগ্রহ হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিযুক্ত।
