রাজশাহীতে ডেঙ্গুর উদ্বেগ, রামেকে এক দিনে ভর্তি ৫২ রোগী
বিশেষ প্রতিবেদন: রাজশাহীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩০ জন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে ২০১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ২২৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সারা দেশে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৪৯ জন এবং মারা গেছেন সাতজন। জাতীয় পর্যায়ে রোগীর এই চাপ রাজশাহীতেও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এ মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই শুধু মশকনিধনের ওষুধ ছিটানো নয়, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জমে থাকা পানি অপসারণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
রাজশাহী মহানগরীর কোন কোন এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, ওয়ার্ডভিত্তিক রোগীর সংখ্যা কত এবং মশকনিধন কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে, এসব তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজশাহী জেলা ও বিভাগের অন্যান্য এলাকার পরিস্থিতিও আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
চিকিৎসায় সতর্কতা জরুরি
ডেঙ্গু আক্রান্তদের জ্বর কমে যাওয়ার পরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
রাজশাহীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রোগীর চাপ অনুযায়ী চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়াতে ধারাবাহিক কার্যক্রম চালাতে হবে।
সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নয়, আক্রান্তদের অবস্থান, মৃত্যুর তথ্য এবং প্রতিরোধ কার্যক্রমের ফলাফলও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সমন্বিত নজরদারি ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগই রাজশাহীতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকাশিত তথ্য।
