ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান
নিউজ সিক্সটিন ডেস্ক: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে ১ হাজার ৩৮২টি হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সশস্ত্র বাহিনী। এসব হামলায় প্রায় ৪৪০ জন হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডার হতাহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ১৪৬টি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকার্যকর করার দাবিও করেছে সরকারি বাহিনী।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি এসব তথ্য জানান। বুধবার (২৮ অক্টোবর) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে।
সামরিক মুখপাত্রের দাবি, ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের আওতায় হুথিদের কমান্ড সেন্টার, সুরক্ষিত অবস্থান, গোলাবর্ষণের স্থান, সেনা সমাবেশ, রসদ সরবরাহের পথ এবং সামরিক শক্তিবৃদ্ধির বহর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তাইজ গভর্নরেটের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনী ও স্থানীয় প্রতিরোধ যোদ্ধারা বিমান সহায়তায় সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে বলেও জানান আল-নুজাইলি। তাঁর দাবি, হুথিদের পাল্টা অবস্থান পুনর্দখলের চেষ্টা প্রতিহত করার পাশাপাশি কয়েকটি কৌশলগত অবস্থান ও পাহাড়ি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে সরকারি বাহিনী।
এ ছাড়া বাব আল-মান্দেব, ধুবাব ও আল-মুদারাবাহ ফ্রন্টে হুথিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত এবং তাদের সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে। সানা ও আশপাশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় ফ্রন্টেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
সৌদি আরবে হামলার পাল্টা দাবি হুথিদের
অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ও গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারির দাবি, ২৭ অক্টোবরের আগের ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের সংখ্যা ছিল ৮১। তাদের অভিযোগ, সানা, তাইজ, লাহিজ, সাদা, হাজ্জাহ ও ইব্বসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র আরও দাবি করেছেন, সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগার এবং রিয়াদে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। রাস তানুরায় আগুন লাগার দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২৭ অক্টোবর রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি স্থাপনা ও একটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি সূত্রের বরাতে রাস তানুরা টার্মিনালের কাছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আগুনের সঙ্গে হুথিদের কথিত হামলার সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত নয়।
বিমান চলাচলেও প্রভাব
ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবের নিরাপত্তা, বিমান চলাচল ও জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত ৪ হাজার ৭৩৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪ হাজার ৭১টি বাতিল হয়েছিল। তবে সব ফ্লাইট বাতিলের পেছনে একই কারণ ছিল, এমন তথ্য নিশ্চিত নয়।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর দেশটিতে সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করে। বর্তমানে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই চলছে। তবে সাম্প্রতিক অভিযানে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং কোন পক্ষ কতটা ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও রয়টার্স।
